English
রবিবার ০৫ ফেব্রয়ারি ২০২৩
...

বিএনপির সমাবেশ নিয়ে সরকার ভয় পেয়েছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ

ঢাকা, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২,শনিবারঃ "১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনের বিএনপির সমাবেশ নিয়ে সরকার ভয় পেয়েছে। তাদের ঘুম হারাম হয়েছে। তারা নিজেরাই বলাবলি করছে, সেদিন নাকি তাদের তখতে তাজ উল্টে যাবে। তাদের নিজেদের ওপরই আস্থা নাই।" রাজশাহীতে আজ হাজী মুহম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে  বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা  বলেন।

উল্লেখ্য, নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবম সমাবেশটি আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহীতে।

মির্জা ফখরুল বলেন, "সরকার জঙ্গি আক্রমণের ধুয়া তুলেছে। যখন সরকারের দরকার হয় এবার বিএনপিকে ধরতে হবে, তখন তারা জঙ্গি তৈরি করে। নিজেরা বাস পুড়িয়ে, ককটেল মেরে বলে বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করছে।"

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, "১০ তারিখে বিএনপি নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে চায়। সেখানে বিএনপি বরাবর বিভাগীয়, জাতীয় অনেক সমাবেশ করেছে। সেখানে লাখ লাখ মানুষ হয়েছে। কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে এখন কেন সমস্যার কথা আসছে? 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, "চোরের মন পুলিশ পুলিশ এদের অবস্থা এ রকম। কিছু হলেই দুঃস্বপ্ন দেখে। বিএনপি আইলো, তারেক রহমান আইলো।" তিনি বলেন, "বিএনপির  আন্দোলন, খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য নয়, বা তাঁদের দলের নেতাদের মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, এ আন্দোলন ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন।"

তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারা একটি নতুন... নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তারপর নতুন নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে সংসদ গঠিত হবে। এখন যেসব দল আন্দোলনে আছে তাদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।"

মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। দুর্বার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তাদের রুখে দিতে না পারলে সব অর্জন শেষ হয়ে যাবে।আওয়ামী লীগের শাসনামলে ৬০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে। এর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে জাকারিয়া পিন্টুসহ নয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে। এটাই এ সরকারের চরিত্র। এভাবে তারা বিরোধী দলকে নির্মূল করে দিতে চায়। এতে কি নির্মূল হয়েছে? রাজশাহীর মানুষ ভয় পেয়েছে? পায়নি। আরো উত্তাল হয়ে জেগে উঠেছে। এ লড়াইয়ে আমাদের জয়ী হতেই হবে।" 

আওয়ামী লীগ লুটেরাদের সরকারে পরিণত হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, "এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এরা রাজনীতির কাঠামোকে হত্যা করেছে। পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে নয়টা গায়েবি কোম্পানিকে টাকা দিয়ে ব্যাংক খালি করে দেয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, দেশের টাকা লুট করে বেগমপাড়া আর সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে এরা। দানবীয় অনির্বাচিত এ সরকার অস্তিত্ব সংকটে পড়ে বিরোধী দলকে হামলা-মামলা, গুম-খুন দিয়ে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় মেতেছে, কিন্তু পারেনি। এখন তারা ভয়ে আছে। আজ আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেমেছি।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপি সভাপতি এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। 




মন্তব্য

মন্তব্য করুন