English
রবিবার ০৫ ফেব্রয়ারি ২০২৩
...

আগামিকাল রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ

বিএনপি

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২,শুক্রবারঃ আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী নগরের মাদ্রাসা মাঠে বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সমাবেশের আগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন মালিক সমিতি।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে পথে পথে তল্লাশি চালাচ্ছে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ। রাজশাহীর বিভিন্ন প্রবেশপথ থেকে শুরু করে রেলওয়ে স্টেশনেও চলছে তল্লাশি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, "তল্লাশি করতে গিয়ে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে পুলিশ। আবার অনেককেই রাজশাহী শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদেরকে বাড়ি ফেরত পাঠানো হচ্ছে। গত বুধবার থেকে এ অবস্থা চলছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।"

অথচ ধর্মঘটের কারণে তিন দিন আগে থেকে নেতা-কর্মীরা এসে তাঁবু ফেলেছেন পাশের একটি ঈদগাহ মাঠে। সেখানে যেন সমাবেশের পাশাপাশি চলছে অন্য রকম এক উৎসব। বাইরে থেকে কোনো নেতা সেখানে ঢুকলেই দেওয়া হচ্ছে স্লোগান। নিজ এলাকার নেতার নামে চলছে খণ্ড খণ্ড মিছিল।

সমাবেশের আগেই সেখানে শুরু হয়েছে ‘মিনি সমাবেশ’। ধানের শীষ মাথায় বেঁধে বরগুনা থেকে এসেছেন শুকুর আলী খাঁ। তিনি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাঁকে নিয়ে উল্লাসে মেতে উঠে। রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলামের সৌজন্যে তৈরি করা হয়েছে বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে ‘প্রতিযোগিতা কর্নার’। 

বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে এভাবে বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলটির নেতা-কর্মীরা এসে রাজশাহীতে... অবস্থান করছেন। তাঁদের অনেকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, "সরকার আমাদের সমাবেশে নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। সরকারের বাধার কারণে তিন ঘণ্টার সমাবেশ, তিন দিনের সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এজন্য সমাবেশস্থলেই পাশেই এখন সমাবেশ শুরু হয়ে গেছে। সেখানে অনবরত মিছিল, স্লোগান আর সংক্ষিপ্ত ভাষণ চলছে।"

উমারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবদুল কাদের মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, "চৌহালী থানার বেশির ভাগ চর এলাকা। সেখান থেকে সোমবার রাতে নৌকায় করে নদী পার হয়ে ভ্যানে এসেছেন সিরাজগঞ্জ শহরে। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পত্রিকার গাড়িতে গতকাল রাজশাহীতে পৌঁছান। থাকার জায়গা নেই, নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিএনপির কার্যালয়ে উঠেছেন।"

সিরাজগঞ্জের সাবেক মেয়র আবদুস সালাম বললেন, "রাজশাহীতে আসতে তাঁদের পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে। মামলা করা হয়েছে। তাঁদের ২১০ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ সমাবেশ সফল করার জন্য এত কষ্ট করে এসেছেন। তাঁদের দাবি, এ সরকারের পতন হোক, খালেদা জিয়া মুক্তি পাক এবং তারেক রহমান দেশে ফিরুক।"

রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, "মানুষজনকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আজ থেকে নেতা-কর্মীরা আসা শুরু করেছেন। তাঁরা অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।"




মন্তব্য

মন্তব্য করুন