English
রবিবার ০৫ ফেব্রয়ারি ২০২৩
...

অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৫ নভেম্বর, ২০২২, মঙ্গলবারঃ মন্দার প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "সবাই নিজেদের জমিতে কিছু না কিছু উৎপাদন করবেন। বিশ্বমন্দার ধাক্কা যাতে বাংলাদেশে না লাগে, সে জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।"  আজ মঙ্গলবার মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত 'ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ - ২০২২' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে  গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।   

অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। রূপকল্প ২০২১ লক্ষ্য স্থির করে আমরা ২০০৮ এর নির্বাচনে ইশতেহার দিয়েছিলাম এবং বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা এখন পর্যন্ত সরকারে আছি একটানা। যার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নগুলো তরান্বিত-দৃশ্যমান হচ্ছে এবং মানুষ তার সুফল ভোগ করছেন। ২০২১-এর লক্ষ্য পূরণের মতো ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও পূরণ করা হবে।"  

তিনি আরও বলেন, "আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করি তখনই আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাই। এই মর্যাদা নিয়েই আমরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এটাই আমাদের প্রত্যয় এবং লক্ষ্য। এর ধারাবাহিকতায় যে কোনো ঝুঁকি হ্রাস করা, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া, সেই সঙ্গে উন্নয়ন কাজগুলো দ্রুত তরান্বিত ও মানসম্মত করা আমাদের সবার প্রচেষ্টা।"

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, "ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের এই অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে, শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নত হবে। সেই লক্ষ্যই আমরা বাস্তবায়ন করবো, আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে বিনা পয়সা ঘর করে দিচ্ছি। তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। বিদ্যুৎ প্রায় গ্রামে পৌঁছে দিয়েছি।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমাদের উন্নয়নের গতি কিছুটা হলেও স্লথ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা), কাউন্টার স্যাংশনের (পাল্টা নিষেধাজ্ঞা) ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। এই মন্দা মোকাবিলায় এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।"  

আওয়ামী লীগ শাসনকালে ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের... উদাহরন তুলে ধরে তিনি বলেন, "সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি আমরা এ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। কারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জীবনটা যাতে ভালোভাবে চলে সেটাও দেখা আমাদের দায়িত্ব। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রেশনের ব্যবস্থা করা এবং ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়েছে। যারা এ কাজে সম্পৃক্ত, তারা যেন উন্নত মানের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি পান, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নিয়েছি। তাই ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা বিদেশি সহায়তাও কাজে লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, "লিঙ্গসমতা দূর করতে ‘ফায়ারম্যান’ পদের নাম ‘ফায়ার ফাইটার’ করা হয়েছে। পরিদর্শকের সংখ্যা ৫০ থেকে ২৬৮, ডুবুরির সংখ্যা ২৫ থেকে ৮৫, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা ৫০ থেকে ১৯২, আগুন নেভানোর পানিবাহী গাড়ির সংখ্যা ২২৭ থেকে ৬১৭ এবং ফায়ার পাম্পের সংখ্যা ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৪৬টিতে উন্নীত করা হয়েছে।" সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত ৩০ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মীকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। 

ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি কর্মী মানুষের কাছে দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে প্রতীয়মান, দাবি করে  ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৭টি অগ্নিদুর্ঘটনায় অংশ নিয়ে ১৬ হাজার ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৯টি অ্যাম্বুলেন্স কলের মাধ্যমে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৯ জন রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে।’" 

এবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, "দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি।" প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন এবং রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও নিরাপত্তাসেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। 

বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে  সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ জন অগ্নিবীরের পরিবারসহ ৪ ক্যাটাগরিতে ৪৫ ফায়ার ফাইটারকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া 'ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স পদক-২০২২' পদক তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। 




মন্তব্য

মন্তব্য করুন