English
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
...

ঢাকায় সৈয়দ আশরাফের জানাজায় জনতার ঢল

মরহুম সৈয়দ আশরাফের জানাজা - ছবি সূত্র বাসস

ঢাকা, রবিবার, ৬ জানুয়ারি ২০১৯, রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকেই ধেয়ে চলেছে লাখো জনতার স্রোত, সবার একই গন্তব্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। আজ রবিবার সকালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় বীর, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে দশটার দিকে অনুষ্ঠিত এ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম আবু রায়হান।

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের পূত্র কিশোরগঞ্জের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফের জানাজায় শরিক হন কিশোরগঞ্জের আরেক কৃতি সন্তান মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট মো. আবদুল হামিদ। 

এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ছাত্র ও যুব সমাজ, সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধরা, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী ও গুণগ্রাহীগণ সহ অগুনিত জনসাধারণ এ নামাজে শরিক হন। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানাজা শেষে অসংখ প্রবাসীদের দেখা পান যারা সূদুর ইউরোপ, আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়া থেকে এসেছিলেন জানাজায় যোগ দিতে।

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে মরহুমের মরদেহ আজ সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হলে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় কফিন।  এ নামাজের পূর্বে মরহুমের জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা সহ মরহুমের কর্মময় জীবন তুলে ধরেন নিজ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি... বলেন, " দল-মতের উর্ধে উঠে মাটি-মানুষের রাজনীতি করতে পেরেছিলেন সৈয়দ আশরাফ "। মরহুমের ছোট ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্নার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। 


বাদ জানাজা ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মহান নেতাকে গার্ড অব ওনার দেয়া হয়। তারপর মরহুমের কফিনে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে আরেকবার শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। এরপর আসেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, ১৪ দলের পক্ষে মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও জাসদ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

জানাজা শেষে তাকে হেলিকপ্টারযোগে গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে নেয়ার পর মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের মাঠ শোলাকিয়ায়। তারপর তৃতীয় ও সর্বশেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে। পর্যায়ক্রমে তিনটি জানাজা শেষে মরহুমের লাশ ঢাকায় ফিরিয়ে এনে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

উল্লেখ্য, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, পাঁচবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি র'জিউন)। এরপর তাকে গতকাল শনিবার থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় এনে সিএইচএম এর হিমাগারে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।




মন্তব্য

মন্তব্য করুন