ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে দেশের বিভিন্ন পোশাকশিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গাজীপুর, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমেও।
শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে অসন্তোষ কমানো কঠিন হবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনা করে মালিকপক্ষ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সমাধান এখন সময়ের দাবি।