সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম। বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাড়ছে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা ঘরে সাধারণ ব্যায়াম শরীর ও মন সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ অথবা ৭৫ থেকে ১৫০ মিনিট উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ করা উচিত। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়মিত ব্যায়ামের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করা। শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতেও এটি কার্যকর হতে পারে।
শারীরিক উপকারিতার পাশাপাশি ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে, মেজাজ ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ পেশি ও হাড়ের শক্তি বজায় রাখা, ভারসাম্য উন্নত করা এবং স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ব্যায়াম শুরু করতে ব্যয়বহুল সরঞ্জাম বা জিমের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে যাঁদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে বা শারীরিক সক্ষমতা সীমিত, তাঁদের ব্যায়ামের ধরন নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম সুস্থ জীবনযাপনের
একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে, শারীরিক
সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করতে সহায়তা করে। তাই সুস্থ ও সক্রিয়
জীবন নিশ্চিত করতে ব্যায়ামকে সাময়িক উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং
প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) — শারীরিক
কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্য।