English
রবিবার ০৫ ফেব্রয়ারি ২০২৩
...

আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের

জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফাইল ছবি

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর, ২০২২, মঙ্গলবারঃ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পাশাপাশি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে। সাম্প্রতিক কালে অন্যসব পরাজিত প্রেসিডেন্ট রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প তেমনটা করেননি। তিনি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে তিনি লড়বেন। তাই এই মধ্যমেয়াদী নির্বাচন ট্রাম্পের হাতকে হয় শক্তিশালী করবে বা তার সব আশা গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

এনবিসি নিউজের সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, "জনসমর্থনের হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে তাদের ব্যবধান কমিয়ে এক কদম এগিয়ে গেছে।"তবে, ৪৮ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার জানিয়েছেন, "তাঁরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে দেখতে চান।" ৪৭ শতাংশ ভোটার বলছেন, "তাঁরা রিপাবলিকানদের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে।"

প্রতি চার বছর অন্তর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। এই নির্বাচনের দুই বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের প্রতিটিতে এবং সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়।  এ ছাড়া অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে গভর্নরসহ বিপুলসংখ্যক আসনে ভোট গ্রহণ হয়। এ বছর মোট ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। মধ্যবর্তী এই নির্বাচনের ফলাফল বহুলাংশ নির্ধারণ করে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট তাঁর অবশিষ্ট দুই বছর কীভাবে শাসন করবেন।

এই নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও এক কারণে। একাধিক মামলায় তিনি জেরবার হয়ে আছেন। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে যে হামলা হয়, সে ব্যাপারে ব্যাপক তদন্তের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল প্রমাণাদি হাজির করেছে। এই কমিটির সামনে জবাবদিহির জন্য তাঁকে ইতিমধ্যে সমন জারি করা হয়েছে।

কিন্তু যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়, তাহলে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই এই কমিটি বাতিল হবে, সে কথা... নিশ্চিত করেছেন কেভিন ম্যাকার্থি।  ট্রাম্পের জন্য এই তদন্তের চেয়েও বড় ফাঁড়া হলো অতি গোপনীয় নথিবিষয়ক বিচার বিভাগীয় তদন্ত। তাঁর বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবনে অতি গোপনীয় সরকারি নথি নিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বিচার বিভাগ এই অভিযোগে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।কিন্তু এর আগেই যদি তিনি নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তাহলে বিষয়টি রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে প্রবল রকম রাজনৈতিক হিসাবে ধরা পড়বে।

ট্রাম্প ও একাধিক রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, "ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করলে দেশে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটবে। ফলে কোনো সন্দেহ নেই এই নির্বাচনের ফলাফল বিচার বিভাগের সেই সিদ্ধান্তে ও প্রভাব ফেলবে।  মধ্যবর্তী নির্বাচন বাইডেনের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।" ডেমোক্র্যাটরা আশা করেছিলেন, "এই নির্বাচন বাইডেন প্রশাসনের ওপর ‘রেফারেন্ডাম’ বা গণভোট নয়, এটি হবে দুই বিপরীতমুখী রাজনীতির মধ্যে বাছাইয়ের লড়াই। কিন্তু তা না হয়ে শেষমেশ এটি বাইডেনের জন্য গণভোটেই পরিণত হচ্ছে।" তাঁর নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা হ্রাস পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই বিপর্যয়।

এই নির্বাচন সত্যিই যদি তাঁর দলের জন্য বড় রকমের বিপর্যয় হয়, তাহলে ২০২৪ সালে বাইডেন নন, অন্য কাউকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চাপ বাড়বে।  বাইডেন যুক্তি দেখিয়েছেন, এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। তাঁর সে কথার সঙ্গে একমত এমন লোকের অভাব নেই, বিশেষ করে সেই সব রিপাবলিকান, যাঁরা ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে ভীত। তাঁদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই হাল ছেড়ে বসে আছেন।

ফক্স নিউজের ভাষ্যকার হুয়ান উইলিয়ামস লিখেছেন, "মঙ্গলবারের (আজ) জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। ফলাফল আমরা জেনে গেছি, আর তা হলো এই নির্বাচনে ঘৃণা ও মিথ্যাচারের জয় হয়েছে।  একই কথা লিখেছেন রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ স্টিভ স্মিথ। এক টুইটার বার্তায় তিনি লিখেছেন, সামনে বিপদ আসছে।"




মন্তব্য

মন্তব্য করুন